মোঃ দেলোয়ার হোসেনপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আসন্ন পর্যটন মৌসুমে দেশের অন্যতম প্রধান দুটি সমুদ্রসৈকত—কুয়াকাটা ও কক্সবাজার—পরিচ্ছন্ন রাখতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে বাজেট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, “পর্যটকরা যেন সৈকতের পরিবেশ নষ্ট না করেন এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ করেন—এমন সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।” তিনি নির্দেশ দেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপনেও গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি।
পলিথিনবিরোধী অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “এই ক্ষতিকর প্লাস্টিক আমাদের মাটি ও পানির জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর অভিযান চালাতে হবে।”
সভায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “হাতির করিডোর যেন কোনও অবস্থাতেই বাধাগ্রস্ত না হয়। গ্রামে হাতির অপছন্দের গাছ লাগাতে হবে, আর করিডোর ও সংরক্ষিত বনে হাতির পছন্দের গাছ লাগাতে হবে, যাতে মানুষ-হাতি সংঘাত কমে আসে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব খায়রুল হাসান, অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দীন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি, বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও যুগ্মসচিব একেএম শওকত আলম মজুমদার এবং প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী।
সভা শেষে উপদেষ্টা বলেন, “পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”