জেলা প্রতিনিধিলক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর লক্ষীপুর-১ আসনে রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। তবে দলীয় কোন্দল বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে তৃণমূলে রয়েছে বিভেদ। দলীয় কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রিয় বিএলডিপি চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন সেলিম ১২দলীয় মুখপত্র হিসেবে জোটের ভাগিয়ে নেওয়ার জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।ইতিমধ্যে তার অনুসারীরা প্রচার শুরু করেছে যে বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বিএনপির জোটের শরিকদল বিএলডিপি চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন সেলিমকে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে।এই নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন এখন পর্যন্ত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। উপযুক্ত সময়েই দলের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ও সর্বোপরি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নিয়ে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও নির্বাচনি এলাকায় কোনও প্রার্থীকে গ্রিন সিগন্যাল বা সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি।প্রত্যাশীদের মধ্যে দলীয় নানা কার্যক্রমে যার পারফরম্যান্স ভালো তাকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হবে।এইদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক, উদার নৈতিক রাজনৈতিক দল। প্রত্যেকটি আসনে আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। অনেক আসনে ১০ থেকে ১২ জনের মতো প্রার্থী আছে। খুব শিগগির আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেব। তবে সেটি অফিশিয়াল ভাবে হবে তফসিল ঘোষণার পরে।
আমাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে লক্ষীপুর-১ আসন গঠিত। সব রাজনৈতিক দলের কাছে আসনটির গুরুত্ব বেশি। বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি, তরিকত ফেডারেশন ও আওয়ামী লীগের দখলেই ছিলো। নির্বাচনী পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই আসনে প্রার্থীরা মূলত বড় রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী, স্থানীয় জনপ্রিয় নেতা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে উঠে আসছে প্রধান প্রধান সম্ভাব্য প্রার্থী, জহিরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক মজু, হারুনুর রশিদ হারুন, ইয়াছিন আলী, নাজমুল হাসান পাটওয়ারী, জাকির হোসেন পাটওয়ারী, মাহবুব আলম, মাশফিকুল হক জয়, শাহাদাত হোসেন, মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বর্তমানে তাদের অবস্থান সম্পকে আমাদের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে মাঠপর্যায়ে কোন নেতার কি অবস্থান।
জহিরুল ইসলাম -(বিএনপি নেতা)
জহিরুল ইসলাম মূলত ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে একটি নির্দিষ্ট মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমেই তিনি রাজনীতিতে অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।নতুন ভোটারদের কাছে তিনি এখনও পুরোপুরি পরিচিত নন। তবে তরুণ ভোটারদের কাছে তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্য ও নতুন মুখ হিসেবে আগ্রহ তৈরি করছেন।সার্বিকভাবে, জহিরুল ইসলাম নতুন মুখ হিসেবে ব্যবসায়িক পরিচিতি কাজে লাগিয়ে এগোতে চাইছেন।
মোজাম্মেল হক মজু -(বিএনপি নেতা)
স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত বিএনপি নেতা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন। তৃণমূল থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকায় সাধারণ কর্মীদের কাছে তিনি সহজলভ্য এবং জনপ্রিয় হিসেবে পরিচিত। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলকে সক্রিয় রাখার জন্য কাজ করেছেন।দুর্দিনে দলের পাশে থেকে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখার জন্য বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।স্থানীয়ভাবে মিছিল-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে ও নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে অবদান রেখেছেন।সামাজিক কাজকর্ম ও জনসম্পৃক্ততায় সক্রিয় থেকে এলাকায় নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন।মোজাম্মেল হক মজু মূলত একজন মাঠপর্যায়ের নেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। তিনি স্থানীয়ভাবে দলের প্রতি আনুগত্য, সংগ্রামী ভূমিকা ও তৃণমূলভিত্তিক সংযোগের জন্য পরিচিত। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সমর্থন মিললে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন। মোজাম্মেল হক মজু রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে উক্ত পদে বর্তমান কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
হারুনুর রশিদ হারুন – (বিএনপি নেতা)
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী আলোচনায় আছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ হারুন তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রামগঞ্জে পারিবারিক ও রাজনৈতিক শেকড় ধরে রেখেছেন। রামগঞ্জের এই আসন বিএনপি যদি শরিকদলকে না দিয়ে দলীয় প্রার্থীকেদেন তবে রামগঞ্জে শক্ত মজবুত, ও প্রভাবশালী নেতা হিসাবে হারুনুর রশিদ নাম প্রথম আসছে। এমন ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা রামগঞ্জ আসনে আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘ দিন অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সামনের সারির নেতা বিগত সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি ঘোষিত প্রতিটি আন্দোলন, মিছিল, অবরোধ ও সমাবেশে সরাসরি মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গ্রেফতার ও কারাবরণ একাধিকবার পুলিশি হামলা, গ্রেফতার ও মামলার শিকার হয়ে দীর্ঘ কারাজীবন কাটালেও দলীয় কার্যক্রম থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।সংকটকালীন সময় আন্দোলনের কঠিন সময়ে যখন অনেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে মাঠে ছিলেন না, তখন তিনি কর্মীদের সংগঠিত করে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে মিছিল-মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি রামগঞ্জের বিএনপির তৃণমূল কাঠামোকে শক্তিশালী করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি দ্রুত তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়া, কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় রক্ষা করেছেন। তরুণ ও উদ্যমী কর্মীদের সামনে আনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন।কেন্দ্রীয় আহ্বান অনুযায়ী পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ সিটির আন্দোলনকে ধারাবাহিক রেখেছেন।হারুনুর রশিদ হারুন একজন মাঠপর্যায়ের ত্যাগী, সাহসী ও সংগ্রামী নেতা। আন্দোলনকালীন সময়ে দলের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ফলে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে একজন নির্ভরযোগ্য এবং প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ইয়াছিন আলী – (বিএনপি নেতা)
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন সক্রিয় নেতা ও কর্মী। তিনি তরুণ বয়স থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচি যেমন মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।দলের কঠিন সময়ে মাঠে থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর আন্দোলনকে গতিশীল রাখার চেষ্টা করেছেন।ইয়াছিন আলী বর্তমানে একজন সক্রিয় মাঠপর্যায়ের সংগঠক। তিনি বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে স্থানীয়ভাবে তরুণ কর্মীদের মাঝে পরিচিতি তৈরি করেছেন। যদিও এখনই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার মতো অবস্থানে নেই, তবে সাংগঠনিক আনুগত্য, ত্যাগ ও সক্রিয়তার কারণে ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাজমুল হাসান পাটওয়ারী – (জামায়াতে ইসলামী)
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের একজন স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা এবং বর্তমানে উপজেলা আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে মিছিল, সমাবেশ, দোয়া মাহফিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন।বিএনপি–জামায়াত জোটের সমন্বিত কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছেন।তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আদর্শিক চেতনা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নাজমুল হাসান পাটওয়ারী একজন আদর্শিক, অভিজ্ঞ ও সাংগঠনিক নেতা, যিনি উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতকে সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করছেন। যদিও জাতীয় পর্যায়ে তাঁর প্রভাব সীমিত, তবুও স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য আমির হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
জাকির হোসেন পাটওয়ারী – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং বর্তমানে জেলা সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামী রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
ইসলামী আন্দোলনের জেলা পর্যায়ের কর্মসূচি যেমন—বিক্ষোভ, সমাবেশ, মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।ইসলামি মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মাঝে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে সংগঠনকে গতিশীল রেখেছেন।স্থানীয়ভাবে শিক্ষা, দাওয়াতি কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করেছেন।রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্যেও সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।জাকির হোসেন পাটওয়ারী একজন আদর্শনিষ্ঠ, গ্রহণযোগ্য ও সংগঠিত নেতা, যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখছেন। যদিও জাতীয় পর্যায়ে তাঁর প্রভাব সীমিত, তবে স্থানীয় জনগণের কাছে তাঁর নৈতিক নেতৃত্ব ও সামাজিক অবদান তাঁকে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
শাহাদাত হোসেন সেলিম (এলডিপি)
শাহাদাত হোসেন সেলিম -এলডিপি, মহাসচিব, ১২ দলীয় জোট মুখপাত্র দলের কার্যক্রমের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক তত্ত্বাবধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি দলের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় এবং কৌশল গ্রহণে সক্রিয়।
মহাসচিব হিসেবে শাহাদাত হোসেন সেলিম দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ, জনসংযোগ এবং কর্মসূচির সমন্বয় তদারকি করেন। তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি ও কার্যক্রম দৃঢ় রাখতে নেতৃত্ব প্রদান করছেন। এছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সমন্বয় ও সংলাপে দলের প্রতিনিধি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শাহাদাত হোসেন সেলিম একজন সংগঠিত, কৌশলী ও কার্যকরী নেতা, যিনি এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। যদি ও তার নির্বাচনীয় এলাকায় তার নিজদলীয় নেতাকর্মীর সমর্থন একেবারে কম, কিন্তু বিএনপির এক অংশ তার পক্ষে কাজ করে। বিএনপি যদি শরিকদলকে মনোয়ণ দেন তাহলে শাহাদাত হোসেন সেলিম এর নামই প্রথমে আসছে।তিনি বিএনপির দুর্দিনে নেতাকর্মীদের সহযোগীতা করেছেন। অনেক নেতার পাশে ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে দলের প্রভাব সীমিত, তবুও তার নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রম নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মাশফিকুল হক জয় -(বিএনপির প্রভাবশালী)
বিএনপির নেতা মাশফিকুল হক জয় স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার ছেলে হিসেবে রাজনৈতিক পরিবারিক পটভূমি নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
মাশফিকুল হক জয় স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে দলের অবস্থান দৃঢ় করতে চেষ্টা করছেন। তিনি মূলত পারিবারিক নাম ও রাজনৈতিক পরিচিতি ব্যবহার করে তৃণমূল পর্যায়ে সমর্থন অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাশফিকুল হক জয় একজন পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগানো নেতা, যিনি স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত থাকলেও স্থায়ী রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নতুন নেতৃত্বের দক্ষতা প্রয়োজন।
মাহমুদুর রহমান মাহমুদ – (জাতীয় পার্টি)
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও লক্ষীপুর জেলা সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং জেলা পর্যায়ে দলের সংগঠন ও কার্যক্রমকে দৃঢ় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
জেলা সভাপতির দায়িত্বে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব প্রদান করেন। স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে সভা, সমাবেশ, মিছিল ও জনসংযোগ কার্যক্রম তদারকি করে তিনি দলের নীতি ও সিদ্ধান্ত তৃণমূলে পৌঁছে দিয়ে কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাহমুদুর রহমান মাহমুদ একজন অভিজ্ঞ জেলা নেতৃত্ব, যিনি জাতীয় পার্টির জেলা স্তরে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখছেন। যদিও জাতীয় পর্যায়ে তাঁর সরাসরি প্রভাব রয়েছে, তবুও স্থানীয় রাজনীতিতে দলের অবস্থান দৃঢ় রাখতে তিনি সক্ষম।
মাহবুব আলম-(জাতীয় নাগরিক পার্টি)
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মাহবুব আলম দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি তদারকি করেন। স্থানীয় পর্যায়ে সভা, সমাবেশ, মিছিল ও জনসংযোগ কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান করে দলের নীতি ও নির্দেশনা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে অবদান রাখছেন। এছাড়াও তিনি স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।তিনি বর্তমান তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই হিসেবে পরিচিত, যা তাকে পারিবারিক পরিচিতি ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা দিচ্ছে। সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহবুব আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,মাহবুব আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন এবং ২০১৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর ইলেকশনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলের এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। মাহবুব আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনান্স বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকত্তোর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি আস্ট্রেলিয়ার University of Wollongong (UOW) থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাহবুব আলম একজন সংগঠিত ও কার্যকরী নেতা, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় রাজনীতিতে অবস্থান দৃঢ় করতে সক্ষম। তবে জাতীয় স্তরে প্রভাব বিস্তারে তাকে স্থানীয় নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করতে হবে।