আজ - |

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

ফ্রান্স এগিয়ে, তবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল-ইংল্যান্ডও সমান হুমকি

News Probashirkotha24.com
  • আপডেট টাইম :   সোমবার | জুন ১৫, ২০২৬ | ০১:০৯ পিএম
  • ৮ বার
Desktop

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সফল ফুটবল ব্যক্তিত্ব আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুর চোখে বিশ্বকাপ কেবল তারকাদের মেলা নয়, বরং কৌশল, নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তার এক দীর্ঘ পরীক্ষা। ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন সম্ভাব্য শিরোপা-দাবিদারদের শক্তি, দুর্বলতা এবং সাফল্যের চাবিকাঠি। তার মতে, ফ্রান্স কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডও সমানভাবে ট্রফি জয়ের ক্ষমতা রাখে।

‘আমার কাছে বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি দীর্ঘ এক মানসিক ও কৌশলগত যুদ্ধ। এখানে শুধু তারকা খেলোয়াড় থাকলেই সাফল্য আসে না। বিশ্বকাপ জিততে হলে প্রয়োজন সঠিক কোচ, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রতিটি পজিশনে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল।

বর্তমান সময়ে আমার চোখে সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল ফ্রান্স। গোলবারে মাইক মেনিয়াঁ, রক্ষণে উইলিয়াম সালিবা ও জুল কুন্দে, মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনি এবং এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, আর সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে—সব মিলিয়ে দলটির প্রতিটি বিভাগই শক্তিশালী। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তাদের কোচ দিদিয়ের দেশঁ বিশ্বকাপের চাপ সামলাতে জানেন। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স বের করে আনার অসাধারণ ক্ষমতা তার রয়েছে। এ কারণেই ফ্রান্সকে আমি শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার মনে করি।

আর্জেন্টিনাকেও আমি খুব ইতিবাচকভাবে দেখি। লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে দলটি এখন অনেক বেশি সংগঠিত এবং পরিণত। লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তা এবং মাঝমাঠের অসাধারণ কর্মক্ষমতা তাদের অন্যতম শক্তি। সবচেয়ে বড় কথা, বড় ম্যাচে আর্জেন্টিনার মানসিক দৃঢ়তা অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে। তারা জানে কীভাবে চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে হয়।

ব্রাজিলের কথা এলে আমি বলব, তাদের ফুটবলে এখনও সেই চিরন্তন সৌন্দর্য আছে, যা যুগের পর যুগ ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে আসছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলাররা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তবে বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু শিল্পীসুলভ ফুটবল খেললেই হবে না, রক্ষণে শৃঙ্খলা এবং কৌশলগত পরিপক্বতাও দেখাতে হবে।

ইংল্যান্ডকেও আমি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখি। জুড বেলিংহ্যামের নেতৃত্বগুণ, ফিল ফোডেনের সৃজনশীলতা, বুকায়ো সাকার গতি এবং হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। তবে তাদের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে কোচের কৌশল এবং নকআউট পর্বের চাপ সামলানোর দক্ষতার ওপর।

আমার বিশ্বাস, বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু বড় খেলোয়াড় থাকলেই হবে না। দরকার এমন একজন কোচ, যিনি সংকটের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ইতিহাস বলে, অনেক সময় কোচের একটি সিদ্ধান্তই একটি দেশের স্বপ্ন পূরণ করে দেয়।

আমি মনে করি, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—এই চার দলের মধ্য থেকেই অন্যতম প্রধান শিরোপা-লড়াই গড়ে উঠবে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতবে সেই দল, যারা প্রতিভা, কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তার সর্বোত্তম সমন্বয় ঘটাতে পারবে।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, কোনো গল্প আগে থেকে লেখা থাকে না। এখানে স্বপ্ন ভাঙে, আবার নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। এখানে অসম্ভবও অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে। আর এ কারণেই বিশ্বকাপ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবেগের নাম।’


ঢাকা বিভাগ ক্যাটেগরির আরো সংবাদ